আহমদ ফারাজ, যাকে দুনিয়া আজ চেনে কেবল ‘মহব্বতের কবি’ হিসেবে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে, তিনি আদতে ছিলেন এক আপসহীন বিপ্লবের কবি। প্রথাগত কবিদের সংজ্ঞায় তাকে ফেলা অসম্ভব; তিনি ছিলেন একেবারেই স্বতন্ত্র। না ছিল তার কবিদের মতো আলুথালু বেশভুষা, না ছিল হাত পেতে বা চেয়ে-চিন্তে দিন কাটানোর স্বভাব। তিনি ছিলেন ফিটফাট পোশাকের এক শৌখিন মানুষ, সফল ব্যবসায়ীও বটে। সাধারণ কবিরা যেখানে সারাজীবন একজন ‘মেহবুব’ বা প্রিয়ার আরাধনাতেই কাটিয়ে দেন, ফারাজ সেখানে আমৃত্যু ছিলেন প্রাণবন্ত; একের পর এক নতুন প্রেম তাকে নতুনভাবে সৃজনশীল করেছে। ব্যবসা হোক বা চাকরি, লাভ বা ক্ষতি। সবই ছিল তার যাপিত জীবনের অংশ। কিন্তু এই বর্ণাঢ্য জীবনের আড়ালে তিনি ছিলেন এমন এক কলমযোদ্ধা, যার শব্দে কেঁপে উঠত শাসনযন্ত্র। আইয়ুব খান থেকে জিয়াউল হক, প্রতিটি সরকারই তার ওপর অতিষ্ঠ ছিল। কিন্তু কেন? কারণ সত্য হলো জগতের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু, আর যে সত্য বলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হয়। ফারাজও দিয়েছেন; কখনো নির্বাসন সয়ে, কখনো সরকারি চাকরি খুইয়ে। তবে মাথা তিনি কখনো নত করেননি।

১৯৩১ সালের ১২ জানুয়ারি। সবুজ পাহাড়ঘেরা কোহাট শহরে আদিব সৈয়দ মোহাম্মদ শাহ বার্ক-এর ঘরে এক শিশুর জন্ম হয়। নাম রাখা হলো সৈয়দ আহমদ শাহ। এই জেদী অথচ সংবেদনশীল শিশুটিই পরবর্তীকালে দুনিয়াজুড়ে পরিচিত হলেন ‘আহমদ ফারাজ’ নামে। তার পিতা মোহাম্মদ শাহ বার্ক ছিলেন ফারসি সাহিত্যের একজন ওস্তাদ। বার্ক-এর নিজস্ব কাব্যগ্রন্থ ‘ফরোখ জাবেদা’ ততদিনে প্রকাশিত। তিনি চেয়েছিলেন তার সন্তানরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান পড়ুক, আধুনিক হোক। কিন্তু নিয়তি ফারাজকে অন্য এক জগতের জন্য গড়ে তুলছিল।
চিলির কিংবদন্তি কবি পাবলো নেরুদা বলেছিলেন, তার কবিতা জন্ম নিয়েছে পাহাড়, নদী আর হ্রদ থেকে। ফারাজের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। কোহাটের নৈসর্গিক সৌন্দর্য তার ভাবনার জগতকে উসকে দিয়েছিল। তিনি যা অনুভব করতেন, তা-ই লিখতে শুরু করলেন। তার কলম তখন কোনো শিকল মানতে নারাজ। তবে এই কাব্যিক যাত্রার পথে পাহাড়সম বাধা ছিলেন তার কড়া মেজাজের পিতা। বার্ক সাহেব বিশ্বাস করতেন ‘সোনার লোকমা খাওয়াও কিন্তু বাঘের চোখে দেখো’ তত্ত্বে। চার ছেলের ওপর ছিল তার কড়া নজর, সন্ধ্যা হওয়ার আগে বাড়ি ফেরা ছিল অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। পিতার এই অতি-শাসন ফারাজের মনে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। যার ফলে তার মেজাজ হয়ে উঠেছিল অস্থির। এই তিনি নরম, তো এই তিনি আগ্নেয়গিরি। কখনো সবকিছু ছেড়ে নিজের খোলসের ভেতর ঢুকে পড়তেন, আবার কখনো হঠাৎ করেই বের হয়ে আসতেন। তবে তার বন্ধু নাভিদ জাইদির মতে, ফারাজ বাইরে থেকে যতটা গম্ভীরই মনে হোক না কেন, তার ভেতরে একটি চঞ্চল শিশু সবসময় বেঁচে ছিল।

যদি বলি, ফারাজ কবি হতে চাননি। তবে কি আপনি অবাক হবেন?। তার স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়া, পাইলট হওয়া। কেন পাইলট হতে চেয়েছিলেন, সেটা যেমন একটা নাটকীয় ঘটনা; তেমনই কিভাবে কবি হলেন সেটাও কম বিস্ময়কর নয়। এক তুচ্ছ ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছাত্রাবস্থায় এক মেয়ে তাকে ‘বৈত-বাজি’ অর্থাৎ কবিতা লড়াই করার চ্যালেঞ্জ দেয়। ফারাজ তখনও কবিতার ধার ধারতেন না। লড়াইয়ে হেরে গিয়ে যে অপমান তিনি বোধ করেছিলেন, তা ঢাকতেই তিনি কবিতা মুখস্থ করা এবং নিজে লেখার চর্চা শুরু করেন।
যৌবনে ফারাজ প্রেমে পড়লেন তার এক সহপাঠিনীর। সেই মেয়ের ভাই ছিল বিমানবাহিনীর পাইলট। ড্যাশিং ইউনিফর্মে তাকে দেখে মেয়েটি যখন গর্ব করত, ফারাজ জেদ ধরলেন তিনিও পাইলট হবেন। ইন্টারভিউ দিলেন, নির্বাচিতও হলেন। কিন্তু যখন যোগ দেওয়ার সময় এল, তার মা কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেললেন। মা বললেন—এক ছেলে আগে থেকেই ফৌজে আছে, দ্বিতীয় ছেলেকে তিনি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না। পাইলট হতে না পারার চেয়ে সেই মেয়েটিকে হারানোর বেদনা ফারাজকে বেশি ব্যথিত করেছিল। বহু বছর পর তিনি সেই স্মৃতি নিয়ে লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত পঙক্তিমালা—
‘মূল উর্দু:
بھلے دنوں کی بات ہے
بھلی سی ایک شکل تھ
نہ یہ کہ حسنِ تام ہو
نہ دیکھنے میں عام سی
bhale dinoñ kī baat hai
bhalī sī ek shakl thī
na ye ki husn-e-tām ho
na dekhne meñ aam sī
বাংলা অনুবাদ:
সে এক সুন্দর সময়ের গল্প, ছিল এক মায়াবী চেহারার রেশ;
ছিল না সে নিখুঁত সৌন্দর্যের প্রতিমা, তবুও ছিল না সাধারণের মতো বেশ।
পরবর্তীতে পেশোয়ারের এডওয়ার্ডস কলেজে ভর্তি হওয়া ছিল তার জীবনের মুক্তি’। সেখানে তিনি মুক্তমনা পরিবেশ পেলেন। তার কবিতা ছড়িয়ে পড়ল বন্ধুদের মুখে মুখে। একদিন গুজরাটে এক মুশায়েরায় বন্ধুরা জোর করে তার নাম গজল প্রতিযোগিতায় লিখিয়ে দিল। ফারাজ সেখানে প্রথম পুরস্কার জিতলেন এবং নিজের ছদ্মনাম রাখলেন ‘শরর’ (স্ফুলিঙ্গ)। পরবর্তীতে ফয়েজ আহমদ ফয়েজের পরামর্শে তিনি নাম পরিবর্তন করে ‘ফারাজ’ রাখেন।

ফারাজের কবিতা কেবল প্রেমিকার কালো কেশ বা রক্তিম গালে আটকে থাকেনি। তিনি যখন দেখলেন রাষ্ট্রের অন্যায়, তার কলম হয়ে উঠল তরবারির ন্যায় ধারালো। ১৯৭৭ সাল ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসের এক কালিমালিপ্ত বছর। ফারাজ তখন একাডেমি অফ লেটারসের প্রথম ডিরেক্টর। সেই সময় তিনি লিখলেন তার জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত ও শক্তিশালী কবিতা—‘পেশোয়ার কাতিলো’ (পেশোয়ারি খুনিরা)। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার প্রেক্ষাপটে লেখা এই কবিতাটি এস্টাবলিশমেন্টের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি সৈনিকদের উদ্দেশ্য করে লিখেন,
خول اترا تمہارا تو ثابت ہوا
پیشہ ور قاتلوں تم سپاہی نہیں
اب سب ہی بے ضمیروں کے سر چاہیئے
اب فقط مسئلہ تاج شاہی نہیں
[Khol utra tumhara tou saabit hua]
[Paisha-war qatilon, tum sipahi nahi]
[Ab sab hi be-zameeron ke sar chahiye]
[Ab faqat masla taaj-e-shahi nahi]
বাংলা অনুবাদ:
মুখোশ খসতেই আজ সত্য হয়েছে প্রমাণ,
হে পেশাদার খুনিরা; তোমরা সিপাহী নও।
এখন চাই সেই সব বিবেকহীনদের শির (যারা করেছে এই সর্বনাশ)
এখন কেবল রাজমুকুটের দ্বন্দ্বে নেই।
ফারাজ জানতেন, যে পাখি স্বাধীনতার গান গায়, শিকারির তীর প্রথম তাকেই বিদ্ধ করে। জেনারেল জিয়াউল হকের আমলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চোখ বেঁধে অজানা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত থেকে মুক্তি পেলেও সামরিক আদালত তাকে ছাড়তে চায়নি। এমনকি খোদ জুলফিকার আলী ভুট্টো তাকে সতর্ক করেছিলেন এই বলে যে, পরবর্তী বিপদে হয়তো তিনি আর বাঁচাতে পারবেন না। ভুট্টোর সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছিল; জিয়াউল হক ক্ষমতা দখল করে ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলান এবং পাকিস্তানে শুরু হয় এক দীর্ঘ অন্ধকার একনায়কতন্ত্রের অধ্যায়।
ফারাজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন। ছয় বছরের দীর্ঘ নির্বাসন জীবনে তিনি আমেরিকা ও ইউরোপে কাটিয়েছেন। কিন্তু তার হৃদয় পড়ে ছিল পাকিস্তানে। ১৯৮৮ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় যখন জিয়াউল হকের মৃত্যু হয়, ফারাজ তখন প্রবাসে বন্ধুদের সাথে ছিলেন। খবরের কাগজে খবরটি শুনে তিনি বিদ্রূপ করে বলেছিলেন, ‘শহীদের যে মৃত্যু, তা জাতির জীবন’। জিয়ার তথাকথিত শাহাদাত নিয়ে এটি ছিল তার চূড়ান্ত কৌতুক।

ফারাজের জীবনে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হলো ২০০৪ সালে জেনারেল পারভেজ মুশাররফের কাছ থেকে ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ পদক গ্রহণ। যে কবি সারাজীবন একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি কেন একজন সামরিক শাসকের পদক নিলেন? বন্ধুরা খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ফারাজ যুক্তি দিয়েছিলেন মুশাররফের ‘উদারবাদী’ নীতির। কিন্তু তার বিবেক তাকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। ২০০৬ সালে মুশাররফের নীতির প্রতিবাদেই তিনি সেই পদক ফিরিয়ে দেন এবং নিজের গায়ে লাগা দাগ ধুয়ে ফেলেন।
অহমদ ফারাজের কবিতা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপমহাদেশের কিংবদন্তি গায়করা তার গজলকে অমর করে তুলেছেন। মেহেদী হাসানের কণ্ঠে ‘রঞ্জিশ হি সহি’ বা নূর জাহানের কণ্ঠে তার গীতিমালা আজও মানুষের হৃদয়ে হাহাকার তোলে। অথচ ফারাজ কখনো অর্থের জন্য বা চলচ্চিত্রের জন্য গান লেখেননি। একবার ভারতীয় অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক, রাজ কাপুর তাকে গান লেখার প্রস্তাব দিলে ফারাজ হেসে বলেছিলেন, ‘তুমি বণিকের মতো কথা বলছ, আমি কোন চিন্তা করি তা তুমি জানো না।’
২০০৮ সালে শিকাগোতে এক দুর্ঘটনার শিকার হন ফারাজ। সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। কারো মতে এটি ছিল সাধারণ দুর্ঘটনা, আবার কারো মতে পাওনা টাকা আদায়ের সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আঘাত পান। কিডনি অকেজো হয়ে গিয়েছিল আগেই। পাকিস্তানে ফিরে আসার কিছুদিনের মধ্যেই, ২৫ আগস্ট ২০০৮ সালে, এই মহান কবি চিরবিদায় নেন।
অহমদ ফারাজ আজ কবরে শুয়ে আছেন। তার কবরের ফলকে কোনো পদবী নেই, নেই কোনো বড় খেতাব। লেখা আছে কেবল তার নাম এবং সেই চিরন্তন পঙক্তি— ‘জিন্দেগি তেরি আতা থি সো তেরে নাম কি হ্যায়…’ (জীবন তোমার দান ছিল, তাই তোমার নামেই উৎসর্গ করা হলো)। যতদিন পৃথিবীতে প্রেম থাকবে এবং যতদিন শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের লড়াই চলবে, ফারাজ বেঁচে থাকবেন তার অমর শব্দের স্পন্দনে। শেষটা তার একটা বিখ্যাত কবিতা দিয়েই করা যাক।

sunā hai (শুনেছি) – আহমদ ফারাজ
sunā hai log use aañkh bhar ke dekhte haiñ
so us ke shahr meñ kuchh din Thahar ke dekhte haiñ
শুনেছি মানুষ তাকে দুচোখ ভরে দেখে,
তবে চলো, ক’দিন তার শহরে থেকেই দেখি।
sunā hai rabt hai us ko ḳharāb-hāloñ se
so apne aap ko barbād kar ke dekhte haiñ
শুনেছি রিক্ত-নিঃস্বদের সাথেই তার মিতালি,
তবে নিজেকে একবার বরবাদ করেই দেখি।
sunā hai dard kī gāhak hai chashm-e-nāz us kī
so ham bhī us kī galī se guzar ke dekhte haiñ
শুনেছি ব্যথারই পসরা খোঁজে তার মায়াবী চোখ,
তবে আমিও তার গলি দিয়ে একবার হেঁটে দেখি।
sunā hai us ko bhī hai sher o shā.irī se shaġhaf
so ham bhī mo.ajize apne hunar ke dekhte haiñ
শুনেছি তারও আছে কবিতা ও শায়েরিতে অনুরাগ,
তবে আমিও একবার হুনারের কারিশমা দেখিয়ে দেখি।
sunā hai bole to bātoñ se phuul jhaḌte haiñ
ye baat hai to chalo baat kar ke dekhte haiñ
শুনেছি সে বললে তার কথা থেকে ঝরে পড়ে ফুল,
যদি তাই হয়, তবে তার সাথে কথা বলেই দেখি।
sunā hai raat use chāñd taktā rahtā hai
sitāre bām-e-falak se utar ke dekhte haiñ
শুনেছি রাতে চাঁদ তাকে একদৃষ্টে চেয়ে দেখে,
তারকারা আসমানের ছাদ থেকে নেমে তাকে দেখে।
sunā hai din ko use titliyāñ satātī haiñ
sunā hai raat ko jugnū Thahar ke dekhte haiñ
শুনেছি দিনে তাকে প্রজাপতিরা জ্বালাতন করে,
শুনেছি রাতে জোনাকিরা থমকে দাঁড়িয়ে তাকে দেখে।
sunā hai hashr haiñ us kī ġhazāl sī āñkheñ
sunā hai us ko hiran dasht bhar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার চোখ দুটি যেন এক কিয়ামত,
শুনেছি সারা বনের হরিণরা ফ্যালফ্যাল করে দেখে।
sunā hai raat se baḌh kar haiñ kākuleñ us kī
sunā hai shaam ko saa.e guzar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার কেশগুচ্ছ রাতের চেয়েও গভীর ঘন,
শুনেছি সন্ধ্যার ছায়ারাও তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখে।
sunā hai us kī siyah-chashmagī qayāmat hai
so us ko surma-farosh aah bhar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার চোখের কাজল যেন এক প্রলয়,
তাই সুরমা-বিক্রেতারাও দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকে দেখে।
sunā hai us ke laboñ se gulāb jalte haiñ
so ham bahār pe ilzām dhar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার ঠোঁটের রাঙা আভায় গোলাপেরা জ্বলে ওঠে,
তবে বসন্তের ওপরই না হয় মিথ্যে অপবাদ দিয়ে দেখি।
sunā hai aa.ina timsāl hai jabīñ us kī
jo saada dil haiñ use ban-sañvar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার ললাট যেন আয়নার এক প্রতিচ্ছবি,
যাদের মন সরল, তারা সেজেগুজে আয়নায় নিজেকে নয়; তাকেই দেখে।
sunā hai jab se hamā.il haiñ us kī gardan meñ
mizāj aur hī laal o guhar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার গলায় যখন থেকে হার দোলে,
মণি-মুক্তার মেজাজও তখন থেকে বদলে যেতে দেখি।
sunā hai chashm-e-tasavvur se dasht-e-imkāñ meñ
palañg zāviye us kī kamar ke dekhte haiñ
শুনেছি কল্পনার চোখে সম্ভাবনার মরুপ্রান্তরে,
তার কোমর বাঁকগুলো অপূর্ব ভঙ্গিমায় দেখি।
sunā hai us ke badan kī tarāsh aisī hai
ki phuul apnī qabā.eñ katar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার তন্বী দেহের গঠন এতটাই সুনিপুণ, যে
ফুলেরা নিজেদের বসন ছিঁড়ে ঈর্ষায় তাকে দেখে।
vo sarv-qad hai magar be-gul-e-murād nahīñ
ki us shajar pe shagūfe samar ke dekhte haiñ
সে দীর্ঘকায় সরু গাছের মতো ঠিকই, কিন্তু আকাঙ্ক্ষার ফুলহীন নয়,
যে সেই বৃক্ষশাখায় যেন আগামীর সার্থকতার মুকুল ফুটতে দেখি।
bas ik nigāh se lutā hai qāfila dil kā
so rah-ravān-e-tamannā bhī Dar ke dekhte haiñ
কেবল এক পলক চাহনিতেই লুঠ হয়ে যায় হৃদয়ের কাফেলা,
তাই বাসনার পথিকেরা বড় ভয় নিয়ে তাকে দেখে।
sunā hai us ke shabistāñ se muttasil hai bahisht
makīñ udhar ke bhī jalve idhar ke dekhte haiñ
শুনেছি তার শয়নকক্ষের পাশেই বেহেশত,
তাই ওদিকের বাসিন্দারাও উঁকি দিয়ে এদিকের জলওয়া দেখে।
ruke to gardisheñ us kā tavāf kartī haiñ
chale to us ko zamāne Thahar ke dekhte haiñ
সে যখন থামে, যামানা তাকে তাওয়াফ করে,
আর যখন সে হাঁটে, সময় থমকে দাঁড়িয়ে দেখে।
kise nasīb ki be-pairahan use dekhe
kabhī kabhī dar o dīvār ghar ke dekhte haiñ
কার এমন নসিব যে তাকে বসনহীন দেখবে?
কখনো সখনো ঘরের দরজা আর দেয়ালই কেবল তাকে ওভাবে দেখে।
kahāniyāñ hī sahī sab mubālġhe hī sahī
agar vo ḳhvāb hai tābīr kar ke dekhte haiñ
সবই হয়তো গল্প, সবই হয়তো নেহাত অতিরঞ্জন,
তবুও সে যদি একটি স্বপ্ন হয়, তবে তার তাবির খুঁজেই দেখি।
ab us ke shahr meñ Thahreñ ki kuuch kar jaa.eñ
‘farāz’ aao sitāre safar ke dekhte haiñ
এখন তার শহরেই রয়ে যাবো না কি বিদায় নেবো?
আসো ‘ফারাজ’, সফরের তারকারাদেরই দেখি।
এখানে তিনি সরাসরি দাবি করছেন না যে প্রিয়তমা এমন, বরং বলছেন যে তার সম্পর্কে এমন সব কথা প্রচলিত। শেষে এসে তিনি স্বীকার করছেন যে এগুলো হয়তো কল্পনা বা অতিরঞ্জন, তবুও সেই ‘স্বপ্ন’কে একবার ছুঁয়ে দেখার আকুলতা তাকে অনন্য করে তুলেছে। এটাই আহমদ ফারাজ।

