সাহিত্য সম্রাটের ১৩৩ তম প্রয়াণ দিবস

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্রই প্রথম বাংলা ভাষার দিগন্তকে প্রশস্ত করেছিলেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Image by Angan

শেয়ার করুন

৮ এপ্রিল, ১৮৯৪। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘আইকন’, প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং পরাধীন ভারতের জাতীয়তাবাদের মন্ত্রদাতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিদায় নিয়েছিলেন এই নশ্বর পৃথিবী থেকে। আজ তাঁর সেই প্রয়াণ দিবসে ফিরে দেখা প্রয়োজন কেন তিনি কেবল একজন লেখক নন, বরং ছিলেন একটি জাতির চিন্তাধারার স্থপতি।

গদ্যের আড়ষ্টতা মুক্তি

বঙ্কিমচন্দ্রের আবির্ভাবের আগে বাংলা গদ্য ছিল হয় অত্যন্ত সংস্কৃত শব্দবহুল, নয়তো কিছুটা অগোছালো। ১৮৬৫ সালে যখন তাঁর ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশিত হলো, বাংলা সাহিত্য যেন প্রথমবার বয়ঃসন্ধির আড়ষ্টতা কাটিয়ে যৌবনে পা রাখল। তিনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে গদ্যের ভেতরেও কবিতার ছন্দ ধরে রাখা যায়। তাঁর ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের সেই বিখ্যাত লাইন “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” আজও বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে মোহনীয় বাক্যগুলোর একটি।

বঙ্কিমচন্দ্র কেবল অতীতচারী ছিলেন না; বরং ইতিহাসকে ব্যবহার করেছিলেন সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সমাধান খুঁজতে। ‘আনন্দমঠ’ বা ‘দেবী চৌধুরাণী’-র মতো উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন দেশপ্রেম এবং আধ্যাত্মিকতার মিশেল। তাঁর সৃষ্ট ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এমন এক অগ্নিমন্ত্র হয়ে উঠেছিল, যা ব্রিটিশ রাজের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তিতে ‘বন্দে মাতরম্’ কে ভারতের জাতীয় সংগীত করা হয়।

গম্ভীর উপন্যাসের বাইরে বঙ্কিমচন্দ্রের আরেকটি রূপ ছিল ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এ। আফিমখোর কমলাকান্তের ছদ্মবেশে তিনি তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি, ব্রিটিশ শাসনের অসারতা এবং মানবজীবনের গভীর দর্শনকে হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরেছিলেন। সমাজ ও দর্শন নিয়ে তাঁর এই তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ আজও প্রাসঙ্গিক।

বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্রই প্রথম বাংলা ভাষার দিগন্তকে প্রশস্ত করেছিলেন। তিনি না থাকলে হয়তো বাংলা সাহিত্যের আধুনিকীকরণ আরও কয়েক দশক পিছিয়ে যেত। আজ বঙ্কিমচন্দ্র নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্ট কুন্দনন্দিনী, ভ্রমর কিম্বা নবকুমাররা আজও বাঙালির ঘরের মানুষ হয়ে বেঁচে আছে।

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রয়াণ আজ থেকে একশ বছরেরও বেশি আগে ঘটলেও, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও ভাষার সংস্কার আজও প্রতিটি বাঙালি লেখকের কলমে প্রবহমান।

উমাইর মাহারভী অঙ্গন-এর একজন স্টাফ রাইটার।

উমাইর মাহারভী থেকে আরো

থেকে আরো

প্রাচ্যের কবি ডক্টর আল্লামা ইকবাল Angan

প্রাচ্যের কবি ডক্টর আল্লামা ইকবাল

আজকের বিভক্ত পৃথিবীতে, যেখানে উগ্রবাদ আর বস্তুবাদ মানুষের আত্মাকে গ্রাস করছে, সেখানে ইকবালের দর্শন কি কেবল লাইব্রেরির তাকে সাজিয়ে রাখার

Scroll to Top